ঝাড়খন্ডের তবরেজ আনসারিকে ১৮ ঘন্টা ধরে মারধোর করেছিল কিছু দুস্কৃতি । সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় । তা নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘটনার ঘুরিয়ে নিন্দা করেছিলেন । সংসদে তোলপাড় হয়েছিল । কিন্ত সম্প্রতি ময়না তদন্তে রিপোর্টে বলা হয় তবরেজ নাকি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন । তাই  অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের (৩০২)ধারার বদলে অনিচ্ছাকৃত খুনের (৩০৪) ধারায় চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ।
এবার এনিয়ে প্রকাশ্যেই সরব হলেন তবরেজের স্ত্রী শঅহিস্তা পারভিন । তিনি স্পষ্ট হুঁসিয়ারি দিয়েছেন  ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের ধারায় মামলা রুজু পুলিশ না করলে তিনি  জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনেই আত্মহত্যা করবেন ।
গত ১৭ জুন গণপিটুনির শিকার হন ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসোঁয়া জেলার বাসিন্দা তাবরেজ আনসারি। ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় তাঁকে একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে বাঁশ, লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। মাথা-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর চোট পান তিনি। ২২ জুন হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাবরেজের। সেই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে ছড়াতেই গোটা দেশে তোলপাড় শুরু হয় সেই সময়। ওই গণপিটুনির ঘটনায় ৩০২ ধারায় সরাসরি খুনের অভিযোগেই মামলা দায়ের হয়েছিল। কিন্তু সেই মামলায় অভিযুক্ত ১৩ জনের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে ৩০৪ ধারায় চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা লঘু হয়ে যায়।
তারইপ্রতিবাদেসোমবারজেলাশাসকেরসঙ্গেদেখাকরতেযানপরভিন।সঙ্গেছিলেনতাঁরমাএবংশ্বশুর। দীর্ঘক্ষণঅপেক্ষারপরতাঁরা জেলাশাসকেরসাক্ষাৎপান বলে অভিযোগ। সেখানেই জেলাশাসককেপরভিন স্পষ্ট জানিয়ে আসেন, ফের ৩০২ ধারা যোগ না করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন এবং সেটা জেলাশাসকের দফতরের সামনেই।পরেপরভিন বলেন,‘‘সারা বিশ্ব আমার স্বামীকে খুন হতে দেখেছে। তার পরেও জেলা প্রশাসন খুনিদের রক্ষা করছে। খুনিদের বিরুদ্ধে খুনের ধারা ফের না জুড়লে জেলাশাসকের দফতরের সামনেই আমি আত্মহত্যা করব।’’
কিন্তু পুলিশ কেন অপেক্ষাকৃত লঘু ধারা দিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে? সম্প্রতি তাবরেজের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। সেখানে জানা যায়, তাবরেজের মৃত্যু হয়েছিল স্ট্রোক বা হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে। জেলার পুলিশ সুপার কার্তিক এস বলেন, ‘‘ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছিল তাবরেজের। সেই কারণেই অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল।’’যেখানে তারবেজের ময়নাতদন্ত হয়েছিলসেই জামশেদপুর মেডিক্যাল কলেজের পাঁচ বিভাগীয় প্রধানের সই করা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে পরে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, স্ট্রোকের কারণ, মাথায় গভীর ক্ষত এবং শরীরে একাধিক জায়গায় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ।
এই রিপোর্ট সামনে আসার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের ধারা দেওয়ার দাবি জোরদার হয়েছে। তাবরেজের স্ত্রীও জেলাশাসককে সেই দাবিই জানিয়ে এসেছেন সোমবার। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় সরাসরি খুন এবং ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারার মধ্যে শাস্তির পার্থক্য রয়েছে। ৩০২ ধারায় ফাঁসি এবং যাবজ্জীবনের বিধান রয়েছে। কিন্তু অনিচ্ছাকৃত খুনের ক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ ১০ বছর বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।


Find out more: