গতকাল জম্মুর রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে । আগামী ২৪ অক্টোবর জম্মুতে হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন । এই নির্বাচন উপলক্ষে জম্মুর মূলস্রোতের রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে । গতকালই প্রশ্ন উঠেছিল তাহলে কাশ্মীরের মূলস্রোতের রাজনীতিবিদদের কবে মুক্তি দেওয়া হবে । আসলে ভারতের সঙ্গে কাশ্মীরিদের যোগসূত্রে অন্যতম কারিগর ফারুক আবদুল্লাহ , ওমর আবদুল্লাহ , মেহবুবা মুফতি কিংবা সিপিএম নেতা ইউসুফ তারিগামি দুমাস ধরে বন্দী থাকার কারণে বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তি খানিকটা ধাক্কা খেয়েছে । বিশেষ করে অশীতিপর বৃদ্ধ ফারুক আবদুল্লাহকে আটক করে রাখা হয়েছে যা নিয়ে মোদী সরকার দেশে ও বিদেশে সমালোচিত হয়েছে ।
তাই গতকাল জম্মুর নেতাদের মুক্তি দেওয়ার পর দেশজুড়ে দাবি উঠতে থাকে ফারুক-ওমর-মেহবুবা-তারিগামিদের মুক্তি দেওয়ার । তাই আজ সকালে তড়িঘড়ি সাংবাদিক সম্মেলন করে কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের উপদেষ্টা ফারুক খান জানিয়েছেন , কাশ্মীরের গৃহবন্দি ও আটক নেতাদেরও খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি দেওয়া হবে ।
ফলে ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতিরা এ বার মুক্তি পাচ্ছেন। সূত্রের খবর, আগামী ২৪ অক্টোবর উপত্যকায় ব্লক স্তরের নির্বাচনের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ফারুক খান জানিয়েছেন, ‘‘হ্যাঁ, প্রত্যেকের কার্যক্রম আলাদা আলাদা করে পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে কাশ্মীরের নেতা–নেত্রীদের মুক্তি দেওয়া হবে।’’
৫ অগস্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়া এবং কাশ্মীর ও লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার আগে থেকেই কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল জম্মু কাশ্মীরকে। ল্যান্ড ফোন, মোবাইল, কেবল পরিষেবা বন্ধ করে গোটা উপত্যকায় জারি হয় কড়া নিয়ন্ত্রণ।
আগামী ২৪ অক্টোবর ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ ব্লক পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে গোটা জম্মু–কাশ্মীর জুড়ে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পরে এই প্রথম উপত্যকায় ভোট হচ্ছে। ৩০০ ব্লকের ভোটগ্রহণ ঘিরে উপত্যকায় রাজনৈতিক তৎপরতাও শুরু হয়েছে। ভোটগণনাও হবে ওই দিনই। সেই ভোটগ্রহণকে সামনে রেখেই এই নেতাদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।
উপত্যকা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও এখনও অনেক জায়গায় নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। বিভিন্ন পকেটে এখনও ইন্টারনেট, মোবাইল, ল্যান্ডলাইন, কেবল পরিষেবা বন্ধ এবং যাতায়াতের উপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কবে সেই নিয়ন্ত্রণ কবে উঠবে, সে প্রশ্নে অবশ্য স্পষ্ট করে কিছু বলেননি রাজ্যপালের উপদেষ্টা। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নিয়ন্ত্রণ তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।