নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ— একই সঙ্গে দু’জনেরই সমান ঘনিষ্ঠ ও একই রকম আস্থাভাজন, আমলা মহলে এমন ব্যক্তি বিরল। ব্যতিক্রম আপাত নিরীহ, সাধারণ চেহারার গিরিশচন্দ্র মুর্মু। অর্থ মন্ত্রকের বর্তমান ব্যয়সচিব।

নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম উপরাজ্যপাল হিসেবে সেই মুর্মুকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার। ২০০২-এর গুজরাত দাঙ্গা থেকে ইশরত জহান ভুয়ো সংঘর্ষ মামলা— মোদী ও অমিত শাহ, দু’জনেরই রাজনৈতিক কেরিয়ারের স্পর্শকাতর সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গিয়েছে এই ওড়িয়া অফিসারকে। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মোদীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে মোদী তাঁকে দিল্লিতে আনেন। মুর্মুর বিরুদ্ধে গুজরাত দাঙ্গার তদন্তে তৈরি নানাবতী কমিশনের সামনে সরকারি সাক্ষীদের ‘শেখানো-পড়ানো’-র অভিযোগ উঠেছিল। ইশরত জহান ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় সিবিআই তাঁকে জেরাও করে। সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংয়ে অভিযোগ ওঠে, মুর্মু-সহ গুজরাতের মন্ত্রী-আমলারা মিলে ওই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন।

জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান রাজ্যপাল সত্যপাল মালিককে গোয়ার রাজ্যপাল করে উপত্যকা থেকে সরানো হল। মূলত অতিরিক্ত মুখ খুলে বিতর্ক তৈরির জন্যই তাঁকে সরানো হল বলে সরকারি সূত্রের ব্যাখ্যা। মালিক নিজেই সম্প্রতি বলেছিলেন, মুখ ফস্কে এক দিন কথা বলার জন্য তাঁকে তিন দিন ধরে ব্যাখ্যা দিতে হয়!

 

গিরিশ মুর্মুকে জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল নিয়োগের সিদ্ধান্তই আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ মুর্মু এখনও অবসরই নেননি। মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর দফতর, তার পরে অর্থ মন্ত্রকে যুগ্মসচিব হিসেবে কাজ করছিলেন মুর্মু। মনে করা হয়েছিল, তাঁকে ইডি-র ডিরেক্টর করা হবে। কিন্তু তা হয়নি। জল্পনা ছিল, মুর্মুকে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। কিন্তু তা-ও করা হল না।

সরকারি সূত্রের ব্যাখ্যা, এর পিছনে প্রথম ও প্রধান কারণ, মুর্মু একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আস্থাভাজন। দ্বিতীয় কারণ হল, তাঁর বাস্তববোধ, লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে প্রশাসন চালানোর ক্ষমতা। অনেকে বলছেন, মোদী এ বার উপত্যকার উন্নয়নে মুর্মুর প্রশাসনিক দক্ষতাকে কাজে লাগাবেন। একই ভাবে লাদাখের উন্নয়নে গতি আনার জন্য প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব ও প্রাক্তন মুখ্য তথ্য কমিশনার মাথুরের উপরে ভরসা রাখা হচ্ছে।

 


Find out more: