আজ সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলেই কাশ্মীর থেকে 370 ধারা বাতিল করা হল। অর্থাত এতদিন যে বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছিল জম্মু-কাশ্মীর তা আর এদিনের পর থাকল না। শুধু তাই নয়, জম্মু-কাশ্মীর ভেঙে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ এই দুটি আলাদা রাজ্যের প্রস্তাব সংসদে পেশ করলেন অমিত শাহ। দুটি জায়গাতেই দুজন লেফটেন্যান্ট গর্ভনর নিয়োগ করা হবে। কিন্তু এই 370 ধারা নিয়ে জেনে নেওয়া যাক হাফ ডজন তথ্য –


এক, ভারতীয় সংবিধানে ‘টেম্পোরারি প্রভিশন’ ছিল 370 ধারা। রাষ্ট্রপতি ক্ষমতা বলে তা বাতিল করা যেত। এবং সেই ক্ষমতা বলেই এদিন 370 ধারা রদ করা হলো। এই ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে ‘বিশেষ মর্যাদা’ ও স্বায়ত্বশাসন দেওয়ার কারণে সংবিধানের ধারাগুলি দেশের অন্য সব রাজ্য বা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের জন্য যা প্রযোজ্য ছিল জম্মু-কাশ্মীরের জন্য তা ছিল না।

 

দুই, এই ধারা অনুযায়ী প্রতিরক্ষা, বিদেশ, অর্থ এবং যোগাযোগ ছাড়া আর অন্য কোনও বিষয়ে জম্মু-কাশ্মীরের জন্য কেন্দ্রের অধিকার ছিল না। এমনকী কোনও আইন প্রণয়নেরও অধিকার ছিল না সংসদ বা কেন্দ্রের।

 

তিন, এই ধারার অধীনে 35A ধারা ছিল। যার ফলে কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারা বিশেষ সুবিধা পেতেন। দেশের অন্য কেউ সেখানে কোনও স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারতেন না। কিনতে হলে জম্মু-কাশ্মীরে অন্তত দশ বছর থাকতে হতো। আজকের পর আর এই নিয়ম আর থাকল না। দেশের যে কোউ সেখানে স্থাবর সম্পত্তি কিনতেই পারেন দশ বছর না থেকে। কে স্থায়ী এবং কে অস্থায়ী তা নির্ধারণ করার অধিকার ছিল জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভারই।

 

চার, দেশের অন্য কোনও রাজ্যের নাগরিক জম্মু-কাশ্মীরে চাকরির আবেদন করতে পারতেন না এতদিন এই ধারা বলবত থাকায়।

 

পাঁচ, জম্মু-কাশ্মীরের কোনও মহিলা অন্য কোনও রাজ্যে বিয়ে করলে তিনি সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। এমনকী তাঁর উত্তরাধিকারীরাও সেই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতেন।

 

ছয়, আজ সোমবার এই ধারা রদের ফলে এই সমস্ত নিয়ম যেমন থাকলই না, তেমনি দেশের অন্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে কোনও পার্থক্যই থাকল জম্মু-কাশ্মীরের।


Find out more: