লক্ষ্য খরচ কমানো । তাই কর্মী সংকোচন করতে হবে সরকারকে । এত টাকা বেতন দেওয়া কেন্দ্র সরকারের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে । তাই ২০২০ সালের মধ্যে রেলকর্মী সংখ্যা তিন লক্ষ কমাতে হবে । সেই মত রেলের প্রত্যেক ডিভিসনকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সের কর্মীদের তালিকা প্রকাশ করতে । রেল মন্ত্রক সেই তালিকা প্রস্তুত করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে এক লক্ষ কর্মী কাছাকাছি নাম রয়েছে । সেই তালিকা মতই এবার কর্মী সংকোচন করবে রেল । রেল ইউনিয়নগুলি দাবি করেছে এটা আসলে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রথম ধাপ ।
বহুল প্রচারিত দৈনিক আনন্দবাজারে ডিজিটাল সংস্করণে রেল মন্ত্রকের একটি সমীক্ষার কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে । তাতে বলা হয়েছে, ৫% কর্মী কমলে খরচ বাঁচবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে বেতন খাতে রেলের খরচ প্রায় ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। পেনশন খাতে খরচ ছুঁয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা। তাই বেতন খাতে বরাদ্দ কমাতে ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটার পরিকল্পনা নিয়েছে রেল। অগস্ট মাসে যে সব কর্মীদের বয়স ৫৫ বছর কিংবা তারও বেশি, তাঁরা কে কত দিন কাজ করেছেন, বেতন পরিকাঠামো, সময়ে কাজে আসেন কি না, খরচ বাঁচিয়ে কাজ করেন কি না, পাঁচ বছরে অসুস্থতার জন্য কত দিন ছুটি নিয়েছেন, শৃঙ্খলাপরায়ণ কি না, ওই কর্মীর সততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে কি না— সে সব খতিয়ে দেখে জোনগুলিকে রিপোর্ট দিতে ।
আনন্দবাজারে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে ,গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জোনগুলির রিপোর্ট জমা পড়ে মন্ত্রকে। রেল সূত্রের মতে, প্রতিটি জোন থেকে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজারের কাছাকাছি নাম জমা পড়েছে। পশ্চিম রেলওয়ে থেকে ছ’হাজারের কাছাকাছি নাম এসেছে। দক্ষিণ রেলওয়ের সংখ্যাটিও ছ’য়ের কাছাকাছি। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেল থেকে প্রায় পাঁচ হাজার নাম জমা পড়েছে। সবচেয়ে বেশি নাম এসেছে উত্তর রেলওয়ে থেকে। সাত হাজারের বেশি নাম রয়েছে তাদের তালিকায়। তবে মন্ত্রক সূত্রের দাবি, তালিকায় নাম থাকা মানেই কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে, তা নয়। আগে অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা হবে কর্মীদের কী ভাবে ভাল ‘প্যাকেজ’ দেওয়া যায়, তা নিয়ে। তার পরে ছাঁটাই। কর্মী ছাঁটাই ও বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২৬ অগস্ট থেকে ধর্নায় বসেছে পশ্চিম-মধ্য রেলওয়ের কর্মীরা। ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত হলে বড় আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে মেনস ফেডারেশন।
যোজনা কমিশন থেকে বর্তমানের নীতি আয়োগ— সকলেরই পরামর্শ, লোকসান সামলাতে বেতন খাতে খরচ কমাতে হবে রেলকে। পরিচালন ব্যবস্থা যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়ায় বাড়তি কর্মী ছাঁটাইয়ের সুপারিশ করা হয়। রেলের বর্তমান কর্মী ১৩ লক্ষের কাছাকাছি। ২০২০ সালের মধ্যে তা কমিয়ে ১০ লক্ষে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল।
লোকসন সামলানোর নামে রেলের কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে দেশে যে আরও বেকারত্ব বাড়বে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । যদিও বলা হচ্ছে নতুন নিয়োগ করা হবে ; তবে  সম সংখ্যক কর্মী যে  নিয়োগ হবে না তা বলাই বাহুল্য মাত্র । স্বচ্ছ ভারত এবং আচ্ছে দিনের যে প্রতিশ্রুতি মোদী সরকার মানুষকে দিয়েছিল তা যে আদৌ বাস্তবায়ত হবে না সেটা বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয় । সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার ।


Find out more: