গত বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি-র এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের হাতে ঘেরাও হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় । আর এই ঘেরাওয়ের ঘটনায় উপাচার্য সুরঞ্জন দাসের উপর ক্ষুদ্ধ হয়েছিলের আচার্য তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় । পরবর্তীতে রাজ্যপাল নিজে যাদবপুরে গিয়ে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন । এই ঘটনায় রাজ্য সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে । মুখ্যমন্ত্রীও ক্ষোভ করেছেন ।
সোস্যাল মিডিয়ায় রাজ্যপালের ভূমিকার সমালোচনা হয় । তারপর রাজ্যপাল এক বিবৃতিতে বলেছিলেন , বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসাবে তিনি ওখানে গিয়েছিলেন । সমস্যা সমাধানে তিনি উপচার্য সহ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন বলে জানিয়ে ছিলেন ।
সেই মত আজ বৃহস্পতিবার উপাচার্য , সহ-উপাচার্য ও রেজিস্টারের সঙ্গে রাজ্যপাল বৈঠক করেন । বৃহস্পতিবার রাজভবনের তরফে একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, এ দিন রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, উপাচার্য সুরঞ্জন দাস, সহ-উপাচার্য প্রদীপ ঘোষ, সহ-উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঘণ্টাখানেক আলোচনা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে ঠিক কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে কিছু জানায়নি রাজভবন।
পরে রাজভবনের বিবৃতিতে জানানো হয়, উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে রাজ্যপাল খুবই সন্তুষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে আচার্যের সাহায্য চান বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন উপাচার্য। আচার্য তাঁকে জানান, তিনিও পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। উপাচার্য তাঁকে জানান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বৈঠকের ব্যবস্থা তিনি করবেন। এর পরই এ দিন উপাচার্যের সঙ্গে রাজভবনে কথা হয় রাজ্যপালের। পুজোর ছুটির পরেও আলোচনা চলবে বলে রাজভবনের তরফে জানানো হয়েছে।